1. clients@www.dainikbangladesh71sangbad.com : DainikBangladesh71Sangbad :
  2. frilixgroup@gmail.com : Frilix Group : Frilix Group
  3. kaziaslam1990@gmail.com : Kazi Aslam : Kazi Aslam
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
জরুরী নিয়োগ চলছে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক বাংলাদেশ ৭১ সংবাদ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। সাংবাদিকতা সবার স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে আপনাদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে দৈনিক বাংলাদেশ ৭১ সংবাদ দেখিয়ে দিন সাহসীকতার পরিচয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। আপনার আশপাশের ঘটনা তুলে দরুন সবার সামনে।হয়ে উঠুন আপনিও সৎ, সাহসী সাংবাদিক। দৈনিক বাংলাদেশ ৭১ সংবাদ পোর্টাল নিয়োগ এর নিদের্শনাবলী: ১/জীবন বৃত্তান্ত ( cv) ২/জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি। ৩/সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি ১কপি। ৪/সর্বনিম্ন এইচএসসি পাস/সমমান পাস হতে হবে। ৫/বিভিন্ন নেশা মুক্ত হতে হবে। ৬/নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ৭/স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। ৮/স্মার্টফোন ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে। ৯/দ্রুত মোবাইলে টাইপ করার দক্ষতা থাকতে হবে। ১০/বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন এর মানসিকতা থাকতে হবে। ১১/সৎ ও পরিশ্রমী হতে হবে। ১২/অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। ১৩/নারী-পুরুষ আবেদন করতে পারবেন। ১৪/রক্তের গ্রুপ যুক্ত করবেন। ১৫/স্থানীয় দের সাথে পরিচয় লাভ করতে হবে। ১৬/উপস্থিত বুদ্ধি, সঠিক বাংলা বানান, ও শুদ্ধ বাংলায় পারদর্শী হতে হবে। ১৭/ পরিশ্রমী হতে হবে যোগাযোগের জন্য ইনবক্সে মেসেজ করুন cv abuyousufm52@gmail.com দৈনিক বাংলাদেশ ৭১সংবাদ মোবাইল নং(01715038718)

বরিশাল নগরীতে ৭/৮ বছরের শিশুরা নেশায় আসক্তঃ দৈনিক বাংলাদেশ ৭১ সংবাদ।

Reporter Name
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ সিরাজুল হক রাজু
স্টাফ রিপোর্টার।

বরিশাল নগরের লঞ্চঘাট ট্রার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করে চোখে পড়লো চায়ের দোকানের বেঞ্চের ওপর বসে একটি শিশু কিযেন খাচ্ছে। দূর থেকেই কৌতূহলী চোখ দেখতে থাকলাম তাকে। বোঝা গেল, একটি পলিথিনে করে কিছু নিয়ে শিশুটি খাচ্ছে। হঠাৎ তার সামনে গিয়ে দেখতে পারলাম শিশুটি মুখের সামনে পলিথিন নিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। তখনেই স্পষ্ট হয় বিষয়টি। শিশুটি সর্বনাশা মাদক ‘ড্যান্ডি’ গ্রহণ করছে। ৭ থেকে ৮ বছর বয়সের এই শিশুটি তলিয়ে যাচ্ছে মাদকের করালগ্রাসে। যেই মোবাইলটা হাতে নিলাম, অমনি মুখ থেকে পলিথিনটা সড়ানোর চেষ্টা করে শিশুটি।
কথা বলার জন্য অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর নাম বলেন সোহেল। পরিচয় দিলো তিনি ঢাকা থেকে আসছে। কেন এই ড্যান্ডি নিচ্ছো, জানতে চাইলে শিশুটি হেসে ওঠে। মা-বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেন, ‘মোর বাপ-মা নাই, এল্লিগাইতো ড্যান্ডি খাই।
শুধু পথশিশুরাই নয়, ড্যান্ডির নেশায় আসক্তহচ্ছে সাধারণ পরিবার ও শ্রমজীবী শিশু-কিশোররা। এর প্রধান কারণ ‘ডেন্ডি’ গামের সহজলভ্যতা। ড্যান্ডি গাম বিক্রিতে তেমন কোন নীতিমালা না থাকায় হাতের নাগালেই মিলছে এ নেশা দ্রব্য। এমনকি ড্যান্ডি নেশা থেকে পথশিশু-কিশোরদের রক্ষায় দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনেরও জোড়ালো কোনো ভুমিকাও। ফলে ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত শিশু-কিশোরের সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরাই এক সময় ঝুকছে গাঁজা, মদ, ফেন্সিডিল ও ইয়াবার দিকে। আর নেশার টাকার যোগান দিতে তারা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মত নানা অপরাধে।
জানা গেছে, ড্যান্ডি এক ধরনের গাম। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপে। তবে এটি জুতা তৈরীর প্রধান উপকরণ। এগুলো পাওয়ার সহজ উপায় নগরীর বিভিন্ন যানবাহনের পার্স এবং হার্ডওয়ারের দোকানে। কিন্তু ‘ড্যান্ডি’ নামক এই গামই ব্যবহার হচ্ছে নেশার কাজে। সল্প খরচে পাওয়া ‘ড্যান্ডি গাম’ পলিথিনে ঢেলে একটু ঝাঁকুনি নিয়ে তার মধ্যে মুখ ঢুকিয়ে গন্ধ শুঁকে নেশা করা হচ্ছে। ‘ড্যান্ডি গামে তীব্র গন্ধ না থাকায় শিশু-কিশোররা যে কোন জায়গায় দাড়িয়েই গ্রহন করছে এই নেশা। নগরীর লঞ্চঘাট, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড, কাঠালতলা, নথুল্লাবাদ, আমতলা পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ড্যান্ডি সেবন করে এ সব শিশু-কিশোররা।
মাদকাসক্ত এসব শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থের বিনিময়ে বেসরকারিভাবে বরিশালে ৫০ আসনের ৫টি ও ১০ আসনের ১টি নিরাময় কেন্দ্র থাকলেও সরকারি কোন নিরাময় কেন্দ্র নেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) ও ইউনিসেফের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে প্রায় ৯ হাজার ৭৭১ জন পথশিশু বা ছিন্নমূল শিশু রয়েছে। যারা অধিকাংশই মাদকাসক্ত। জুতা কিংবা ফোমে ব্যবহৃত সলিউশন (আঠা) পলিথিনে ভরে কিছুক্ষণ পরপর মুখের সামনে নিয়ে শ্বাস টেনে নেশা করতে দেখা যায় তাদের। এতে মাথা ঝিম ঝিম করে। অর্থাভাবে খেয়ে না খেয়ে তাদের রাত কাটে পথে-ঘাটে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে বছরের বিভিন্ন দিবসগুলোতে এসব শিশুদের নিয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেলেও বছরের বাকি সময় তাদের পাশে কাউকে দেখা যায় না। ফলে অভিভাবকহীন এসব শিশুর পথচলা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোপনে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের। আবার জোর করেও তাদের এসব ক্রিয়াকলাপে নিয়োগ করা হচ্ছে। ড্যান্ডির টাকা জোগার করতে অনেকে আছে ভিক্ষা ও চুরির সঙ্গে জড়িত। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা যা তাদের অধিকার।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে ১৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, শিশুদের যে কোনো ধরনের অনাচারের কবল থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শিশুদের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকার জন্মগত। তারপরও এসব শিশুরা থেকে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে। ভাগ্য বিড়ম্বিত পথশিশুদের জন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক সংগঠন যে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বরিশালে অভিভাবকহীন, হারিয়ে যাওয়া, এতিম-মিসকিন শিশুদের জন্য শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং সরকারি শিশু পরিবার বালিকা নামে মোট তিনটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে মোট ৪০০ আসন থাকলেও সেখানে মাদকাসক্ত ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেই।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তফা কামাল এর কাছে জানতে চেয়েছি ড্যান্ডি নেশার ভয়াবহতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ড্যান্ডি’ অন্যান্য নেশার থেকেও খুব ভয়াবহ। এগুলো গ্রহনের ফলে মানব দেশের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, ব্রেন, কিডনি, লিভার ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ক্ষুদা মন্দাসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, ‘মুলত ছিন্নমুল শিশু এবং বিভিন্ন কল কারখানার শিশুরাই এই নেশার প্রতি বেশি আসক্ত। এজন্য তাদের কাউন্সিলিং করা উচিৎ। যেসব শিশুর বাবা-মা রয়েছে তারা তাদের সন্তান কি করে কোথায় যায়, কি খায় সে দিকে নজর রাখবে। ড্যান্ডি নেশা গ্রহন করা শিশু-কিশোরদের এ নেশার খারাপ দিক গুলো ভালোভাবে বোঝাতে হবে। পাশাপাশি এ নেশা নিয়ন্ত্রন করতে প্রথমত যারা শিশুদের কাছে ড্যান্ডি গাম বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ।
বরিশাল উপ-প্রকল্প পরিচালক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য্য জানান, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রায় সকল শিশুকে ৩ মাস ও ৬ মাস মেয়াদে বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বর্নিভর করে গড়ে তুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবাসী শিশুর প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- কম্পিউটার, মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, টেইলারিং, ব্লক-বাটিকসহ পারিবারিক সবজি চাষসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Copyright © 2020 DainikBangladesh71Sangbad
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )